কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: সোমবার, ১১ মে, ২০২৬ এ ০৩:১৭ PM
কন্টেন্ট: পাতা
আমি আসমা আক্তার রুনা, বয়স ২৫ বছর। আমরা চার ভাইবোন। আমি এবং আমার এক ভাই দৃষ্টি প্রতিবন্ধি এবং অন্য দুই ভাইবোন অধ্যায়নরত । আমি জন্ম থেকে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী। আমি চোখে একদমই দেখতে পাই না। আমার প্রথম পড়ালেখা শুরু হয় একাশি মুরাদপুর পিএসটি সেন্টার, মুরাদপুর, চট্টগ্রাম এ । আমি পড়ালেখা করেছি ব্রেইল পদ্ধতির মাধ্যমে। মুরাদপুর থেকে আমি প্রথম শ্রেণী থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ালেখা করেছি । ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত হামজারবাগ রহমানিয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে আমি অনাবাসিক শিক্ষার্থী হিসেবে বাহিরে থেকে পড়ালেখা করেছি। বিদ্যালয়ের সহপাঠী ও শিক্ষকরা প্রথমদিকে কটাক্ষচোখে দেখলেও পরবর্তীতে তাদের সহযোগীতা পেয়েছি । পরিবারের আর্থিক অবস্থা খারাপ ছিলো এ কারণে আমাকে পড়ালেখার খরচ চালাতে খুব কষ্ট হয়েছে। একজন শিক্ষক আমাকে আর্থিকভাবে সহযোগীতা করতেন এবং আমার এক আত্মীয়(খালা) মাঝে মাঝে আর্থিক সহযোগীতা করতেন ।
ছোটবেলা থেকেই আমার জীবনটা ছিলো বড় কষ্টের। আমার বাবার নিজস্ব কোন জমি ছিলো না। তিনি ছিলেন একজন বর্গাচাষী । তিনি যা আয় করতেন তা দিয়ে পরিবারের ভরণপোষণ ভালোভাবে মিটানো সম্ভব হতো না । বাবা ব্যতীত আমাদের পড়ালেখার খরচ চালানোর মতো অন্যকেউ ছিল না। ভাই বোন সবাই ছোট ছিল। ছোটবেলা থেকেই আমরা অনেক কষ্ট করে পড়ালেখা করেছি। আমার আরো এক ভাই দৃষ্টি প্রতিবন্ধী। যিনি ফকিরখীল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, সাতকানিয়া, চট্টগ্রাম এ ২০২৩ সালে যোগদান করেন এবং বর্তমানে সহকারী শিক্ষক পদে কর্মরত রয়েছেন । পরিবারের সমর্থন পেলেও আত্মীয় স্বজন এবং প্রতিবেশীরা বিভিন্ন সময়ে আমাদেরকে বিশেষ করে আমাকে পড়াশুনার ক্ষেত্রে নিরুৎসাহিত করতেন । তবুও আমার মা-বাবা আমাকে পড়ালেখা করিয়েছেন ।
আমি ২০১৭ সালে চট্টগ্রাম সরকারী সিটি কলেজ থেকে HSC পাশ করি । ২০১৮ সালে সহকারী শিক্ষক পদে আবেদন করি এবং উত্তীর্ণ হই। আমি ২০২০ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি উপজেলা শিক্ষা অফিসে যোগদান করি এবং ১৯ ফেব্রুয়ারি জনার কেঁওচিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করি । আমার প্রথম কর্মস্থলে সকল শিক্ষক সহযোগীতা করেছেন তবে বর্তমান কর্মস্থলে অনেকে বিভিন্ন সমালোচনা এবং অসহযোগীতা করলেও অনেকে সহযোগীতা ও করেন । ২০২০ সালে সরকারী চাকরিতে যোগদান করলেও আমি আমার পরবর্তী লেখাপড়া বন্ধ না করে অক্লান্ত পরিশ্রম আর অদম্য প্রচেষ্টায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইসলামিক হিস্ট্রি এন্ড কালচার বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর (১ম শ্রেণি) অর্জন করি । আমি একা একা বাড়িতে চলাচল করতে পারলেও বাড়ির বাইরে চলতে অন্যের সাহায্য প্রয়োজন হয় । আমার মা-বাবা সর্বদা আমার যেকোন প্রয়োজনে সহযোগীতা করেছেন এবং বর্তমানে ও করছেন।
পারিবারিক ও সামাজিক লোকচক্ষু উপেক্ষা করে স্নাতকোত্তর পাশ করেছি এবং ২০২০ সাল থেকে সহকারী শিক্ষক পদে কর্মরত আছি । আমার শিক্ষকতা পেশা থেকে বর্তমানে আমার ছোট ভাইবোন ও মা-বাবাকে আর্থিকভাবে সহযোগীতা করছি